বদলে যাচ্ছে রূপগঞ্জের রূপ

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৬ ০৬:২৬:২৯ || আপডেট: ২০১৮-১১-০৬ ০৬:২৬:২৯

লিখন রাজ, রূপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের অধিনে চলছে ব্য্পক উন্নয়ন। বদলে যাচ্ছে রূপগঞ্জের রূপ, চেনাই যাচ্ছে না। এখানকার রাস্তা ঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট  ফ্লাইওভারসহ   বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষের পথে। কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের শেষের দিকে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আওয়ামীলীগ সরকারের গত ১০ বছরে উন্নয়ন কর্মকান্ডে রূপগঞ্জ উপজেলার চিত্রে এক অনন্য রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের মধ্যে নির্মাণাধীন ভুলতা ৩ তলা ফ্ল্ইাওভার ও শীতলক্ষ্যা সেতুর কাজ প্রায় শেষ। চলতি বছরই এগুলো উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

এগুলো উদ্বোধনে রূপগঞ্জের চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে। বর্তমান সরকারের আমলে উপজেলায় ৩ হাজার ২’শকোটি টাকার উন্নয়নের কাজ হয়েছে। তার মধ্যে ১হাজার ৮’শ কোটি টাকার কাজ সড়ক নির্মাণে রূপগঞ্জ উপজেলাকে এক অন্যরকম রূপ এনে দিয়েছে। সড়ক, কালর্ভাট , ব্রীজ সংস্কার ও নতুন ব্রীজ নির্মাণে নতুন সাজে সেজেছে রূপগঞ্জ।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) প্রতিনিয়তই এলাকার উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন খাত থেকে বরাদ্দ আনতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ছুটে চলছে। তার কর্মতৎপরতায় বর্তমান সরকারের উন্নয়নে রূপগঞ্জ এগিয়ে চলছে বলে সাধারণ মানুষের দাবী। বর্তমান মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা চট্রগ্রাম হাইওয়ে সড়কের যানজট নিরশনে উপজেলার ভুলতা এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য গোলাম দস্তগীর গাজী উদ্যোগ নেন। তিনি ভুলতা এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবী জাতীয় সংসদে তুলে ধরে একাধিকবার বক্তব্যও রেখে সরকারের কাছ থেকে ভুলতা ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নিতে বাধ্য করান।

সরকারি অর্থায়নে ২৪০ কোটি ৬লাখ টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজ চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হবে বলে আশা করলেও হয়তো ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে এমনটাই ধারনা করছেন কর্তৃপক্ষ। এই ফ্লাইওভারটি বাস্তবায়ন শেষ হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া এবং গোলাকান্দাইল এলাকার কোনো ধরনের যানজট থাকবে না বলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা মনে করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন ফ্লাইওভারের পিলার, গার্ডার, গ্যাংরোড, ড্রেনেজ, পাইলিং,র্পাকওয়ের কাজ প্রায় শেষ।

১ দশমিক ২৩৮ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই উড়াল সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ২৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঢাকা বাইপাস ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কের গোলাকান্দাইল অংশে ব্যয় হবে ১১২ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কাজে ব্যয় হবে ১২৭কোটি টকা। প্রকল্প পরিচারক রিয়াজ হোসেন বলেন, উড়াল সেতুর ৬৫ভাগ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

অপরদিকে প্রায় এক’শ কোটি টাকা ব্যয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায় সেতু নির্মানের কাজ ৮৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে শীতালক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ের মানুষের ভ্রæাতৃত্বের বন্ধন আরো দৃঢ় হবে। সেতু নির্মাণে দীর্ঘ দিনের অবহেলিত এলাকার মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। এখানকার মানুষের ব্যবসা, বাণিজ্য, শিল্প কারখানার মালামাল পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমে আসব্।ে তাতে কারখানার শ্রমিক, কর্মচারী, মালিক ও এলাকাবাসী লাভবান হবেন। এছাড়াও ডেমরা, রূপগঞ্জ-কালীগঞ্জ সড়ক ও রূপসী-মুড়াপাড়া-কাঞ্চন সড়ক প্রশস্ত করায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে রূপগঞ্জে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। এ ছাড়া ডেমরা-নগরপাড়া-কামশাইর গাজী বাইপাস সড়কে ওই অঞ্চরের ১৭টি গ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন শুরু হয়েছে।

তারাবো পৌরসভায় সড়ক ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ২৮ কোটি ৩২ লক্ষাধিক টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মুড়াপাড়া বাজারে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ, রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ, মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও মুড়াপাড়া পাইলট হাইস্কুল সরকারিকরণ, গাজী অডিটোরিয়াম নির্মাণ, উপজেলার পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে গ্রামীণ অবকাঠামোর নজিরবিহীন উন্নয়নে দেশের দৃষ্টান্ত এখন রূপগঞ্জ উপজেলা। রূপসী-মুড়াপাড়া-কাঞ্চন সড়কটি এশিয়ান ডেভেলপম্যান্ট সোসাইটির অর্থায়নে ৪ লেনে উন্নীত করার জন্য ২০১৭-১৮অর্থ বছরে ২শ’ ৫০কোটি টাকার বাজেট এসেছে। আবার শীতলক্ষ্যার পশ্চিমপাড় এলাকার ডেমরা-রূপগঞ্জ, কালীগঞ্জ সড়কের পূর্বাচল উপশহর ৪নং সেক্টর পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়কের উভয়পাশে ৩ফুট করে প্রশস্ত করার কাজ চলছে। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ৩ হাজার ২’শ কোটি টাকার সড়ক ও সেতু নির্মাণে রূপগঞ্জের চিত্র এখন বদলে যাচ্ছে।

রূপগঞ্জ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হাসান খোকন বলেন, ২০০৮সালে দেশের দর্ুূশাসনের সময় আওয়ামীলীগকে সু-সংগঠিত করে গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক)ই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে রূপগঞ্জবাসীকে সাথে নিয়ে উন্নয়নের কাজ শুরু করে। একটানা দশ বছরে রূপগঞ্জের রূপ পালটে দিয়েছে তিনি। রূপগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌছে দিয়েছেন উন্নয়নের ছোঁয়া। আগামীতেও রূপগঞ্জবাসী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক)কে এমপি হিসাবে দেখতে চায়। আজ যারা গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরোধীতা করছে তারাই রূপগঞ্জের উন্নয়নের চিন্তা না করে লুটপাট করে খাওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এই লুটেরাদের প্রতিহত করতে রূপগঞ্জবাসীকে সাথে নিয়ে সব সময় প্রস্তত আছি।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) বলেন গত দশ বছর জনগণের সাথে থেকে যেভাবে আমি রূপগঞ্জের উন্নয়ন করেছি, জনগন যদি আগামীতে আমাকে নির্বাচিত করে তা হলে এভাবেই রূপগঞ্জের উন্নয়নমূলক কাজ করে যাব।

ট্যাগ :