দামুড়হুদায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোতে সচেতনমূলক সাইনবোর্ড  টাঙয়েই দায় সেরেছে কর্তৃপক্ষ: শত শত ভারী যানবাহন পারাপার।

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৮ ০৫:১৬:০১ || আপডেট: ২০১৮-১১-০৮ ০৫:১৬:০১

সালেকিন মিয়া সাগর,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

দামুড়হুদায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোতে সচেতনমূলক সাইনবোর্ড  টাঙয়েই দায় সেরেছে কর্তৃপক্ষ: শত শত ভারী যানবাহন পারাপার।

এগুলো উপজেলা সদরের মাথাভাঙ্গা নদী, হেমায়েতপুরের বারিকখালি খাল ও গলাইদড়িতে অবস্থিত। সেতু তিনটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শত শত ভারী যানবাহন চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দামুড়হুদা-মুজিবনগর সড়কের মাথাভাঙ্গা নদী পারাপারের জন্য ১৯৮৭-৮৯ সালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের তত্ত্বাবধানে একটি সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯৯০ সালে ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এর কাজ শেষ হয়। বর্তমানে সেতুটির রেলিংয়ের ঢালাই খসে পড়েছে। দুই পাশের নামফলকও ভেঙে গেছে। চওড়া কম হওয়ায় সেতুর ওপর দিয়ে একটির বেশি বাস কিংবা ট্রাক যাতায়াত করতে পারে না। ফলে প্রায়ই এখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।

সেতুটিকে ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দর্শনা-মুজিবনগর সড়কে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর ১৯৯৫ সালে নির্মিত গলাইদড়ি স্টিলের সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বছর দেড়েক আগে সেতুটির পাটাতন ও নিচের গার্ডারের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এরপর কয়েকবার মেরামত করেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে এ সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শত শত ছোট-বড় যানবাহনসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে। কিছুদিন আগে চুয়াডাঙ্গা জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতুর দুই পাশে ‘ধীরে চলুন, সামনে ক্ষতিগ্রস্ত সেতু, পাঁচ টনের বেশি মালামাল বহন করা নিষেধ’ লিখে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সতর্কতামূলক বাণী উপেক্ষা করে মুজিবনগর, কেদারগঞ্জ, আটকবর, কার্পাশডাঙ্গা বাজার থেকে ১০-২৫ টন পর্যন্ত ধান, ভুট্টা, কাঠ, পাটসহ বিভিন্ন মাল লোড করে সেতুটির ওপর দিয়ে বড় বড় ট্রাক চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

হোগলডাঙ্গা-ভগীরথপুর সড়কের হেমায়েতপুর বারিকখালি খালের সেতুটিতেও একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সেতুটির ডান পাশের রেলিংয়ের ঢালাই ভেঙে পড়েছে। তা ছাড়া ওপরের অংশে নানা খানাখন্দে ভরে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন শত শত ভারী যানবাহনসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করে। এটিও যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

দামুড়হুদা উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী খালিদ হাসান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর বিষয়টি নজরে রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা সদরের মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির স্থলে নতুন আরেকটি সেতু শিগগিরই নির্মাণ করা হবে।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর জানান, উপজেলা সদরের সেতুটির স্থলে ফুটপাতসহ ডবল লেনের আরেকটি সেতুর নির্মাণকাজ শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। অন্যান্য সেতুর বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।

ট্যাগ :